Thursday, 16 April 2015

ছোটদের ছবি। রচনা ও পরিচালনা: কৌশিক গাঙ্গুলী

কৌশিক গাঙ্গুলীর এখন পর্যন্ত যা ছবি হয়েছে সবি বিষয় বৈচিত্রে এক একটা অনন্য। ছোটোদের ছবিও তাদের মধ্যে পড়ল। এখানে পুর ছবি জুড়ে কাজ করেছেন আমাদের সমাজে আকারে ছোটো মানুষেরা যাদের আমরা বামন বলে থাকি। ছবির মুখ্য চরিত্র তারাই। তাদের জীবনের গল্প এ ছবি। ছবির গল্প লিখেছেন ডাইরেক্টর নিজেই।
সার্কাসে খেলা দ্যাখাতে গিয়ে ট্রাপিজের অপর থেকে পড়ে যায় সবার প্রিয় শিবুদা। কোমর ভেঙ্গে গেছে। মৃত্যুর সাথে লরাই করছে সে। পিজি হসপিটাল এ পঞ্চাশ হাজার খরচ করে অপারেশান করে বাড়িতে শয্যাশায়ী। ইনিও একজন বামন। এমত অবস্থায় সার্কাসের ম্যানেজার মাত্র পনের হাজার টাকা দিয়ে খোকার হাত দিয়ে টাকা পাঠায় শিবুর বাড়ি। এই খোকাই ছবির নায়ক। খোকা টাকা নিয়ে যায় শিবুর বাড়ি। সেখানে সে নিজে চোখে দ্যাখে কিভাবে বেঁচে আছে তার কাজসংগী। পরের দিন কর্মীদের মাইনের দিন খোকা খবর পায় শিবুদা মারা গ্যাছে। শিবুদার কষ্ট তার মনে দাগ কেটে যায়। নিজের টাকা নেবার সময় সে মেজাজ হারিয়ে চাকরি ছারে। শিবুর মেয়ে সোমা সংসার চালানর দায়িত্ব নিয়েছে ট্রেনে ইঁদুর মারা বিষ বিক্রি করে। কষ্টের সংসার। খোকার সাথে এই সোমার ভালবাসা কিভাবে হল এবং তার পরিণতি নিয়ে এই ছবি।



ছবিতে খোকা রাতের ট্রেনে ফিরছে শিবুদাকে মাত্র পনের হাজার টাকা দিয়ে যা সার্কাস কোম্পানি দিয়েছে যা কিনা শিবুদার দীর্ঘ জীবনের দাম। শিবুদার সংসারের অসহায় ছবিটা ভাসতে থাকে তার মনে। এখানে ফাঁকা  ট্রেনের হাতল ও একা খোকা এক ফ্রেমে রেখে খুব সুন্দর তার মনের অবস্থা ফুটে ওঠে যে কি সম্বল হবে তাদের সংসারের তার পরেই উলটান মরা আরশোলা ট্রেনের মেঝেতে পরে থাকতে দেখে শিবুদার প্রতি সার্কাস কোম্পানির নিষ্ঠুর অবস্থা খোকার মনে যে তোলপাড় করছে সেটা বুঝিয়ে দেয়।
বাড়ি ফিরে জোকারের মুখোশ টা পাশে রেখে যখন খোকা ঘুমায় তার স্বপ্নের দৃশ্যটা ভীষণ অর্থবহ। বামন দের সার্কাসে জোকার দেখতে আমরা চাই কিন্তু তারাও আমাদের মতন সাধারণ দিনযাপন করে সেটা কখন ভুলে যাই। তাই সেই মুখোশ যখন খোকার মাথায় এঁটে যায় সে হাপিয়ে উঠে প্রাণপণ খোলার চেষ্টা করে। আর এই ঘটনা ঘটে লোকাল ট্রেনের মধ্যে যেখানে সবাই মুখোশ পরে আছে। এক কথায় জীবনের রেলগাড়ি আর মুখোশ পরা মানুষ।
কাছের মানুষের যখন চিতা জ্বলে পৃথিবী তখন উলটে যায়। শিবুর চিতা জ্বলছে তার দৃশ্যর পর জলের প্রতিবিম্ব দৃশ্য ছবির মাত্রা টাই পালটে দেয়।  এরকম সারা ছবি জুড়ে রয়েছে সিনেমার ভাষা।
ছবিতে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট মানুষের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। খোকা যখন ষ্টেশনে টিকিট কাটে টিকিটের লাইন থেকে টিপ্পনি আসে ওকে হাফ টিকিট কেটে দেবার। বাস ট্রেন সব্ জাগায় মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই বাচ্চাদের কাছেও তাঁরা হাসির বিষয়। এই বিষয় গুল ক্যামেরাতে ধরা পরেছে সুন্দর ভাবে।
ছবির মেকআপ এমন আসাধারন হয়েছে যে মাঝে মাঝে ভুল হয় লোকগুল কি এমনি দাঁড়িয়ে পরেছে আর কথা বলছে।
খোকার ভুমিকায় দুলাল সরকার ও সোমার ভুমিকায় দেবলিনা ভাল করেছেন এদের অভিনয় এই ছোট মানুষ গুলকে আর জানতে সাহায়্য করেছে।

একবার এক সাক্ষাৎকারে কৌশিক বলেছিলেন যে ছবির এডিটিং বিভাগ তার কাছে খুবই গুরুত্বপুর্ণ। এই ছবি দেখলে সেটা বোঝা যায়। শুরু থেকে শেষ একটাও বাড়তি দৃশ্য নেই। ঠাস বুনন গল্প। ছোট আকারের মানুষদের জীবনের এক ঝলক প্রতিচ্ছবি। এক কথায় ছোটোদের ছবি বাংলা সিনেমাতে একটা অনন্য জায়গা করে নিল। এখন ও না দেখলে দেখতে পারেন ছবিটা।

*** ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছে।
   

7 comments:

  1. বেশ মনোগ্রাহী সমালোচনা। ভাল লাগল। আর পাঠক এ লেখা পড়ে ছবিটি দেখায় আগ্রহী হবেন এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

    ReplyDelete
    Replies
    1. তাহলে কিন্তু বেশ হয়।

      Delete
  2. কবি গল্পকার থেকে সমালোচক .... উত্তরণ কিনা জানি না তবে ভালো লাগল এই নতুন ক্ষেত্রে বিচরণ

    ReplyDelete
    Replies
    1. This comment has been removed by a blog administrator.

      Delete
  3. সুদীপ্ত ধন্যবাদ। একটা চেষ্টা করেছি এই শুধু।

    ReplyDelete
  4. অ-সা-ধা-র-ন। অনেক ভাল লাগল গল্পটা পরে ।আপনার চমৎকার পোস্ট এর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। । আশা করি এইরকম পোস্ট আর পাব। সময় থাকলে আমার এই best online shopping sites
    সাইটে ঘুরে আস্তে পারেন।

    ReplyDelete
  5. ধন্যবাদ আল মামুন। ইছা মত লিখিতে স্বাগত জানাই।

    ReplyDelete