Tuesday, 27 June 2017

বাসে আর  বাঁশে


আমাদের প্রতিদিনের হতচ্ছ্যেদা এবং ন্যাপোনচোপন পরিষ্কারভাবে  ফুটে ওঠে বাসে আর বাঁশে। খুলে কই।

নতুন চাকরীতে জয়েন করেছে এমন কেউ থেকে পুরোন চাকরীতে খ্যাক খ্যাক করে ‘কেমন দিলাম’ বলে সিগারেট টানা দু নম্বর ফুটবল সাইজের ভুঁড়িওয়ালা অবধি সবাই ব্যাঙ্ক ,  ইন্সিওরেন্স  বা অর্থকরী সংস্থা থেকে, থেকে থেকে আজকাল ফোন পেয়ে থাকে।

হ্যালো স্যার

কে

স্যার আমি ক সংস্থা থেকে বলছি আপনার জন্য একটা ভালো লোন আছে। আপনাকে কিচ্ছু করতে হবে না ( আহা কল্পতরু সেবক সমিতি)।

আমার লোন দরকার নেই।

তাহলে স্যার ক্রেডিট কার্ডটা দেব? একদম ফ্রী ( আপনার টাকা আপনি শোধ করবেন। কোথায় ফ্রী এর প্রশ্ন বুঝতে গেলে ভুরুদ্বয় লাগিয়ে রামের ধনুক করে ফেললেও উত্তর নাও পাওয়া যেতে পারে।) ।  

না আমার ফ্রী তে এ্যালার্জি।

তাহলে একটা গিফট কুপন দেবো?

আপনি হয়ত ভাবছেন এতো  উপকার করতে চায় কেন! একদম বাড়ী চলে আসতে পারে আপনি বললেই। দরকারে আপনার হয়ে আপনার অরিজিনাল কাগজপত্র ‘কপি’ করে নিজেই সাজিয়ে নেবে যা কিছু দরকার। আগেকার দিনে রাজারা এমন সুবিধা পেয়ে থাকতেন আর এখনকার বানিজ্যিক মহারাজরা পেয়ে থাকেন বলাবাহুল্য।

কিন্তু আপনাকে এমন সন্মানীয় করে তোলার কারণ আছে বৈ কী - ওই যে আপনার সন্মতি। আপনার যোগদান।

ঠিক একভাবে ঠিক এরকম খাতির করে আপ্যায়ন করে লোকাল বাসের কণ্ডাকটর। বাসের দাঁড়ানোর কথা নয় এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে আপনার ধীর গতির হাঁটাকে (গদাই লস্করি?) অবলীলায় সহ্য ও সন্মান দিয়ে আপনাকে কোলে তুলে নেবার মতোন করে বাসে তুলে নেবে।

এগুলো হল সেই যাকে বলে সুখের সেসব দিন। বাসনার বাসভবন।

বাঁশভবনের গল্পটা এর পর থেকেই শুরু।  না না বাঁশের কেল্লা তো সবার জানা এ তা নয়।

যা বলছিলাম, আপনি বাসে উঠলেন। ‘মাল নিজ দায়িত্বে’ রাখলেন। এরপর যেই আপনার গন্তব্য এলো কণ্ডাকটরের ‘আসুন আসুন’ হয়ে দাঁড়ালো ‘এখানে দাঁড়ানো যাবে না,  লাফিয়ে নেমে যান নেমে যান’। আপনি পড়িমরি করে প্রাণ হাতে করে নিজের দায়িত্বে কোনরকমে নামলেন।  বাস আপনার গায়ে ধুলো ছিটিয়ে চলে গেলো।

এই বাসে ওঠা আর নামার চিত্রটাই ওই অর্থকরি সংস্থার ‘বিজনেস মডেল’। ঠিক এইরকম আপনি অর্থকরী সংস্থাকে সন্মতি জানাবার পরে অর্থাৎ আপনি ওদের বাসে উঠে পরেছেন। এইবার কোন কিছু সমস্যায় পরলেন বা আপনি আর কিছু তথ্য জানতে চান বা আপনি যে প্যাঁচে পড়েছেন সেখান থেকে বেরোতে চান,  আপনি দেখলেন মরুভুমিতে আপিনি একা।

সেই সব লোকগুলো এখন কোথায়?

সেই এক অখ্যাত কবির হাইকু মনে পড়ল।

তুমি ভরসা!

বিপদমুক্ত হলে

তুমি ফরসা।

No comments:

Post a comment