Thursday, 1 December 2016

হাঁটুজল

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সব ব্যাপারে না টেনে আনলে ঠিক রাবীন্দ্রিক মানুষ হিসেবে সমাজের বুকে পরিচিত হওয়া যায় না। এমন ধারণা আমাদের পাড়ার নিরঞ্জন বাবুর বরাবরের বিশ্বাস।  সেদিন তো ওনার সাথে পাড়ার মোড়ে বিকেলে বেশ একটা তর্কাতর্কি হয়ে গেল। উনি দাঁত মাজা থেকে রাতে শুতে যাওয়া অবধি রবীন্দ্রনাথ সঙ্গে নিয়ে থাকেন। আরেকদল জন্মদিন আর মৃত্যুদিনে ধূপধুনো দিয়ে থাকেন প্যাণ্ডেল করে মাইক আনিয়ে। কে বেশী রাবীন্দ্রিক সেই নিয়ে আলোচনা, কী বলব এক্কেবারে সেই টিভির ইদানীং “ঝগড়া ঝগড়া” প্রোগ্রামের মতোই  উচ্চস্বর উচ্চচাপ আর উচ্চাঙ্গ সে তার।  রবীন্দ্রনাথ বাঙালী জীবনে এমন জড়িয়ে গেছেন সত্যি, এখানে আমাদের এই হালকা ফুলকা কথাতেও কেমন করে ঢুকে পরছেন।

Sunday, 27 November 2016

কিস্তি

কিস্তি
নিরঞ্জনবাবুর মেয়ে পুঁটী পাড়ার প্যালাকে বেশ পছন্দ করে।  একদিন তিন রাস্তার মোড়ে প্যালাকে বলল, দ্যাখো আমি তোমাকে যা ভালোবাসি তাতে আর দু তিনদিন লাগবে।  তারপর আমি তোমাকে আর ভালোবাসব না।
প্যালা বলল, কেন?
পুঁটী বলল, আর দু তিনদিনে ভালোবাসা কম্পলিট হয়ে যাবে। একদম সম্পূর্ণ। আর কিছু কম্পলিট হয়ে গেলে আর সেটা করার কী দরকার?

Friday, 2 September 2016

বঁড়শী দিয়ে মাঝদুপুরে

ঠেক বসেছে শুক্রবারে প্রথম ভাগ প্রকাশিত হবার পরপর চারিধারে বিপূল সাড়া পরে গেছে। সকলেই লেখকের ধরমুণ্ড কী করে এক আছে এখনো সেই প্রশ্নে এক মত হতে পারেননি। ঠেকের ভাষার মধ্যে অর্থ খোঁজা ভালো কিন্তু এই ভাষার যে বিপূল দিগন্ত বিস্তৃতি ব্যবহার,  ‘ভারসেটাইল’ যকে বলে সেদিকটায় কেন আলোপাত করা হয়নি এ নিয়ে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে অশেষ আলোচনা চলছে। নিচের  চিঠি তারই একখানি ছুঁচালো নিদর্শন। যা কুটকুট করে ফুটে চলেছে সর্বক্ষণ।  চিঠিটি এইরকম:

Thursday, 12 May 2016

ঝ য়ে ঝর্ণাবতী

ঝ য়ে ঝর্ণাবতী একটা রূপকথার গল্প। ঝর্ণাবতীর জন্ম ঝাড়সুগুদা। রাজা ঝড়েশ্বর আর রাণী ঝিলমের একমাত্র মেয়ে। এক বর্ষার দিনে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছিল। সেই ঝোড় লগ্নেই ঝড়েশ্বর আর ঝিলমের মেয়ের জন্ম। বাবা মা নাম রাখলেন ঝর্ণাবতী। রাজা ঝড়েশ্বর কলেজে ইতিহাস পড়ান। আর রানী ঝিলম স্কুলের ভূগোল। তাদের দক্ষিণ বারান্দা আর দরজায় কলিং বেল লাগান রাজপ্রাসাদ, বুকে কালো ফিতেই বাঁশী লাগান সিড়িজ্ঞে পেয়াদা, একটা লাল রঙের পেট্রোল এর রথ, হেঁসেলের লোক, ভৃত্য মায় সব ই আছে, রাজারাজরাদের যেমন থাকে আর কি! এই রাজবংশে যখন অনেকদিন পর ঝর্ণাবতীর জন্ম হল তখন তার আদরের সীমা থাকল না। আর এই আদরের প্রবাহতেই স্বাভাবিকভাবে রাজকণ্যা বুদ্ধিমতীর সাথে সাথে হয়ে উঠলেন ধীরে ধীরে এক জেদী রাজকন্যা। ঠিক ঝর্ণার মত তার রূপ আবার ঝর্ণার মতোই তার তেজ। কিন্তু ঝর্ণাবতী যত বড় হতে লাগল তার ভেতর একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করলেন তার বাবা মা। বাবা ঝড়েশ্বর আর মা ঝিলমের জন্যই হোক বা ঝমঝমে ঝড় লগ্নে জন্ম গ্রহণের জন্যই হোক বা ঝাড়সুগুদায় বাস করার জন্যই হোক, ঝর্ণাবতীর ঝ এর প্রতি এক নিবিড় এবং অক্লান্ত ভালোবাসা। কয়েকটা উদাহরণ দিলেই সেটা বোঝা যাবে।

Sunday, 27 March 2016

কবিতার কোমল-গান্ধার


গৌতম ঘোষের আবার অরণ্যেসিনেমার সেই অসীমের চাঁচাছোলা উক্তি মনে আছে – “বাঙ্গালী ছেলেরা  একটা বয়সে সবাই কবিতা লেখে। প্রেমে পড়লে কিংবা প্রেমে আপসেট  হলে। কিন্তু আমি কখন লিখিনি।অসীম না লিখতে পারে, তবে বাংলায় সত্যি অন্তত কবিতার যে অভাব নেই এটুকু জানার জন্য বেশী পড়াশোনা করবার দরকার পড়েনা। ভালো, খারাপ, মাঝারী নিম্ন অতিনিম্ন মায় সব স্তরের কবিতা বিপুল পরিমাণে বিদ্যমান। এ সমস্ত কবিতা যেমন আছে ছাপার অক্ষরে গ্রন্থ, পুস্তক বা পত্রিকায় তেমন আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ই-বুক, সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ ও ই-ম্যাগাজিনে।

তবে অসীমের উক্তিতে যে প্রেমে পড়া আর আপ্সেট হবার কথা আছে, আমাদের কবিকুল কিন্তু শুধু তাতে থেমে নেই। একথা সত্যি যে গুনতি করলে হয়ত প্রেমের কবিতা সবার উপরেই থাকবে কিন্তু প্রেমিক কবি ছাড়াও বাংলা জুড়ে আছেন অনেক রকম কবি আর তাঁদের স্বভাব সুলভ কবিতা। যেমন আছেন বিদ্রোহী কবি। সমাজের সকল বিষয়ে তাঁদের বিদ্রোহের আগুনে আমরা সেঁকে থাকি। বন্দুক, গুলি, চড়-থাপ্পড় থেকে শুরু করে মিছিল থেকে প্রতিকার - সব শব্দ তাঁদের কবিতায় আমরা হামেশাই পেয়ে থাকি। তাঁরা যেসব কবিতা লেখেন উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে এমন ওরে ওরে উজবুক এই দেখ বন্দুক/ এক চাপে করে দেব ছারখার তোর বুক।

Tuesday, 15 March 2016

সিদ্ধিলাভ।


--কী রে নাম নথিভুক্ত করার জন্য মাইকেএলাউন্সকরে যাচ্ছে যা নাম লিখিয়ে আয়গপ্পলিখতে হবে বলছে রাতদিন তো কথার খই ছুটছে
-- ইইইইই আআআআআআ আ মাসী জ্বালিও না তো, আর একটু ঘুমাতে দাও পনের তারিখ অবধি সময় আছে তো, জানি
-- আরে শুধু লিখলে হবে না অনেককিছু বলছে শোন ভাল করে
-- কী...কী বলছে কী...
-- বলছে গল্পের শেষে মোচড় থাকতে হবে শোন এরকম মারপিট করে গল্প বাপু লিখতে যাস নি তুই এ কেমনধারা যে গল্প লেখ তারপরে কারুর হাত মোচড়াও পা মোচড়াও এত শুধু টিভিতে দেখি, খবরে দেখায়
-- আর কী বলছে? এ মোচড় সে মোচড় না মাসী! ও তুমি বুঝবে না
-- চিরকাল ফুটবল খেলে, ব্যাট বল খেলে এলি আর মাসী আজ পা মুচড়ে গেছে, হাত মুচড়ে গেছে চেল্লাস, আর আমি চুন হলুদ গরম করে দি তবে নিশ্চিন্তি আর এ আবার কী মোচড়! জানি নেকো বাপু!