Tuesday, 16 June 2015

আনমনে গাই।


(আমাকে অনেকেই বলেছেন এই লেখাটা মোবাইলে পড়লে হোঁচট খেতে হচ্ছে, তাই সকলকে অনুরোধ করছি মোবাইল টাকে ল্যান্ডস্কেপ করে ধরে এই লেখাটা পড়ুন তাহলে অসুবিধা হবেনা। লাইনগুল র‍্যাপ হবে না।)


আকাশ পাখি রোদ বৃষ্টি মেঘের কথা একেক সময় একঘেয়েমি লাগে
এসব ছেড়ে মনের সুখে উন্নয়নের ডুব সাঁতারে উড়নচণ্ডী  হই।



কারখানা আর তার ধুয়ে যাওয়া নোংরা তেল কালি নিয়ে তেলজল -
নদী হয়ে বয়ে যাচ্ছে সাংসারিক উঠোনের মধ্য দিয়ে কল্যাণী পথে।
লালা লাল কাস্তে হাতুড়ি উঁকি দেয় কোয়ার্টারের দেয়ালে ও পাঁচিলে,    
কিছু বাড়ি প্রকাশিত হয় পাঁচ আঙ্গুলের নীল কালি হাত নিয়ে, আর
ইদানীং কালের হিসাবে ভরে থাকে ঘাস ফুল কিম্বা পদ্ম ফুলে পাড়া।
রাজনীতির রঙ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় বাঁচার প্রতীক এই গুলো,
আসলে এসব নিয়ে শ্রমিকের চোখে মুখে আবিরের মত জাগে ট্রেড ইউনিয়ন।
তিন শিফটে কাজ হয় জোর কদমে সভ্যতার এ এক অমোঘ প্রগতি ময়দান।

কাজ শেষে বিকেলের আলোতে সবজির হাট থেকে গোছা করে বাজার আসে
সারা সন্ধে ছেয়ে থাকে ঘরময় পাড়াময় গঞ্জময় রাজ্যময় রান্না সুবাস
গরম ভাতের গন্ধ বাড়ি বাড়ি নিয়ে আসে যেন প্রতিদিন খুশীর ঈদ লেগেছে।
"পাখি সব করে রব"  কলরব চারিদিকে বাচ্চাদের বড় হয়ে ওঠা
পানের দোকানে আড্ডা  ক্লাবের রিক্রিয়েশান তার পাশে জমাট লাইব্রেরী
এই নিয়ে সান্ধ্যবাসর. তারপর রাত্তিরে চিলে কোঠা ছাদের উপরে বিছানাপত্র,
মাথায় খোলা আকাশ তার মাঝে খেটে খাওয়া মানুষেরা দেখে কালপুরুষ।


আবার আর একদিকে চাষির বাড়ি ঘুমায়, খুব জলদি পরদিন কাজে যেতে হয়।
সভ্যতার মুল স্রোতে অনুঘটকের মত ফসল তুলে দেয়, আরামের নেই অধিকার।
উঠোন জুড়ে আখাতে রাঁধা মোটা চালের ভাত, তার সাথে জোটে কিছু কুচো মাছের ঝাল।
মুনিষ খেটে ফেরা অক্লান্ত শরীরে, মনে পড়ছে ধান বুনতে গিয়ে আলের ধারে
পাট পচানো আছে - পয়সা কিছু বিক্রি করে এলে দালানটাকে গাঁথতে  হবে ভালো করে।
বাড়ি বাঁধার ইচ্ছে বোধ হয় মানুষের সব চেয়ে প্রাচীন সবচেয়ে গভীর স্বপ্ন সন্ধান।
এই সব ভাবতে ভাবতে কিছু ঘুম আসে, সুখ টান হয়ে গেছে, যেতে হবে বিকেলের বৈঠক
এই রকম আর এক বিকেলেই ভাসান হবার আগে সারা নদী ভরে চলে নৌকা বাইচ।


কাশফুল, পাতা, গুল্ম, খেয়া পাড়, নদীর বাতাস যখন অর্থহীন লাগে
আনমনে রূপ দেখি পাথুরে সহর গুল অনন্য উন্নয়নে ভিজে যায় আর
গড়ে ওঠে যেন সব বিশালাকার বৃক্ষ সমান অচলায়তনের সমাবেশ -        
এই সব সহুরে শুষ্ক উন্নতিকল্পের গান আসে আনমনে মনের ভিতরে।


6 comments:

  1. মানুষের জীবনের বর্ষলিপি ..... চরৈবতী চরৈবতী .....ভালো লাগলো

    ReplyDelete
    Replies
    1. কি সুন্দর করে বললি সুদীপ্ত। খুব উৎসাহ পেলাম।

      Delete
  2. এ লেখাটা অন্যরকম
    এবং ভালো - বড্ডভালো
    একটা কথায় ছেলেবেলা
    অন্য শব্দে ইচ্ছেগুলো
    কল্পনা পায়

    কল্পনা পায় জল্পনা হয়
    এবং চলে - চলতে থাকে
    স্বপ্নে বিভোর আনমনা মন
    আঁকড়ে ধরে ইশারাকে
    সঙ্গোপনে

    সঙ্গোপনে আশার আলো
    এবং লালে - রক্ত লালে
    ঝান্ডা কাস্তে হাতুড়ি তারায়
    ইশান কোনে রোজ সকালে

    তার পরে আর......

    ReplyDelete
    Replies
    1. অপূর্ব। এরকম কমেন্ট পেলে কি বলে যে উত্তর দেব আমার সত্যি ভাষা নেই।

      Delete
  3. রত্না17 June 2015 at 08:31

    পড়তে পড়তে পৌঁছে গেলাম ছোটবেলাটাতে
    সপ্নগুলো চোখের সামনে ভেসে আসে
    আর কি কভূ ফিরতে পারবো, ,,???
    সেই ফেলে আসা জীবনটাতে

    ReplyDelete
    Replies
    1. বাঃ। দারুন একটা নস্টালজিক অনুভব রত্না তোর কমেন্টে পেলাম। ছোট্ট একটা কবিতা পেয়ে গেলাম এই ফাঁকে। আর তুই যে ব্লগ পড়ে আবার এখানে কমেন্ট ও দিয়েছিস এটা দারুন ব্যাপার। ইচ্ছা মত লিখি তে আবার স্বাগত।

      Delete