Saturday, 5 December 2015

ছোটদের গল্প - বোধন।



আমার নাম নিখিল। আমার খুড়তুতো দাদার নাম অখিল। আমার থেকে আমার দাদা মোটামুটি এক বছরের বড় হবে। কিন্তু না ও আমাকে কখন ভাই ভেবেছে আর আমিও ওকে কোন দিন দাদা বলে মনে করিনি। ছোটবেলা থেকেই আমরা ঠিক দুই বন্ধু ছাড়া আর কিছু মনে হত না। তাই আমার কোন দিন অখিলদা বলা হয়নি। অখিল বলেই ডাকতাম। আমারা বাবার চাকরী সূত্রে গ্রামের বাইরে থাকতাম। আর অখিলরা আমাদের গ্রামের বাড়ীতেই থাকত। গরমের ছুটি আর পূজোর ছুটিতে আমরা গ্রামের বাড়ীতে এলেই একে অপরের সাথে দেখা হত। গ্রামের বাড়ী পৌঁছে যাবার পর আমাদের দুই ভাই কে আর আলাদা দেখা যেত না। তাই অনেকেই আমদের মানিকজোড় নাম দিয়েছিল।

Monday, 24 August 2015

Sonnet 2 – ছাত্র-উপাচার্য


ছাত্র হল অসহায়, পুলিসে পেটায়
অবরুদ্ধ ঘরে। তারাও কিছু-কি কম
রাজনীতি কালি দিয়ে পোস্টার চেটায়
উপাচার্য করেছেন প্ল্যান অনুপম
সারাদিন তাই ঘরে অবরোধ করে
মান জলাঞ্জলি। অপমানে দেয় তালি।
"বদলা"ই জিতে যায়, সভ্যতা আসরে,
বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে, হিংসার ডালি।

Saturday, 15 August 2015

পেশেন্ট সাতষট্টি - চলে যান ...

(এই লেখাটা মোবাইলে পড়লে সকলকে অনুরোধ করছি মোবাইল টাকে ল্যান্ডস্কেপ করে ধরে এই লেখাটা পড়ুন তাহলে এটা ঠিক মত পরিবেশিত হবে।)


আজ স্বাধীনতার আটষট্টি বছর পূর্ণ হয়ে গেল। স্বাধীন হবার পর বেঁচে থাকার জন্য জরুরী পরিকাঠামো এবং অধিকার আমরা পেয়েছি কিনা সে অনেক আলোচনার বিষয়। তবে দেশ যে এখন ও একটা আস্ত পেশেন্ট যার সুচিকিৎসা দরকার সে নিয়ে বোধহয় আমাদের কোন দ্বিমত নেই। তাই নিচের কবিতাটা আগের বছর লেখা হলেও এখন প্রাসঙ্গিক। তাই এখন সেই এক ই পেশেন্টের সাতষট্টি ক্রমিক বদলে হয়েছে আটষট্টি। আজ ১৫ই আগস্ট সারাদিনের জন্য তাই এই কবিতাটা সবার উপরে সবার জন্য আরেকবার থাকল।

Monday, 10 August 2015

একটি অনুগল্প।


সত্যব্রত মাঝি। মাঝির পুরো নামসবার কাছে ও মাঝি বা মাঝিদা এসব নামেই পরিচিত।  আজ উইক এন্ড। ও দেরী করে ঘুম থেকে ওঠেনা। জীবন টা শুরু করেছিল চাটারড  ফার্মে কাজ দিয়ে। অনেক জাগায় ঘুরতে হয়েছে। ধরতে হয়েছে ভোরের ট্রেন। তাই সকালে ওঠা ওর বরাবরের অভ্যেস। আজ ও সকাল সকাল উঠে পড়েছে। আট টার মধ্যে স্নান ও সারা। কিন্তু সকাল থেকেই ওর কাল রাতের অভিজ্ঞতা টা মন থেকে যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে ও কি কাল স্বপ্ন দেখেছিল। নাহঃ। বিশুর সাথে এটা আলোচনা করতে হবে। বিশু ও তো গান বাজনা শোনে। আর কাল রাতের ঐ ব্রাম্মণ শুদ্র নিয়ে যখন ওর সাথে রাতে তর্ক হচ্ছিল, তখন ত ঐ এই সাম বিন গানটা শুনতে বলেছিল। 

Saturday, 8 August 2015

মিতা

আজ ২২ শে শ্রাবণ। তাই এই লেখাটা ওনাকে মনে করার জন্য রাখলাম। এই কবিতাটার অনেক শব্দ রবীন্দ্রনাথের অনুগামী। এমন কি কবিতার নাম টাও ওনার খুব পছন্দের একটা শব্দ। শব্দ গুলো ইচ্ছে করেই এমনভাবে বাছা হয়েছে।  একদিন ওনার কিছু প্রিয় শব্দ থাক না একটা কবিতায়।

Thursday, 23 July 2015

গরুর রচনা।


চা খাচ্ছেন। আর ভাবছেন। কত কিছু ভাবনা আসে না, চা খাওয়ার সময়। ভাবতে ভাবতে একটু মাথাও চুলকালেন। ব্যস। খসখস করে মাথা চুলকালে যা হয় তাই হল। টপ করে আম পড়ার মত চায়ে পড়ল মাথার কয়েক দানা খুস্কি। চা ও এই খুস্কি। চা শেষ। উহু। শুধু খুস্কি। চা ও শেষ খুস্কি। চাউসেস্কু।

আরে না না। আমি চাউসেস্কু শব্দটা শেষে লিখিনি। ওটা যাদের চোখের দোষ আছে তাঁরা পড়লেন। চাউসেস্কু ত সেই কবে দেশের ফসল বিক্রি করা পয়সায় রোমানিয়ায় সোনার প্রাসাদে। তারপর কত কাণ্ড করে তাঁর সোনাঝরা সন্ধ্যা শেষ হল। মানুষের হাতেই মারা গেছিলেন। দ্যূত তেরিনা। এসব ত সবাই জানে। সবাই জানে শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর ই হয়। অন্যকিছু হয় না।

Monday, 6 July 2015

কদিন হল।

কদিন হল সাহস গুলো বেড়াতে গেছে কিছুনা বলে
কেন্নো যেন কুঁকড়ে থাকি, বুকেতে হাত, বল নেইতো
পণ্য জন্ম হয়েছে কবে, কে জানে কখন লুঠ চলছে
জন্ম ভর দাস জন্ম, মাথাটা নুয়ে নিচের দিকে

Wednesday, 24 June 2015

ওর চোখ দিয়ে


-- হ্যালো বাবা।..
-- হ্যাঁ মা বল।
-- কি করছিলে বাবা।
-- এই একটু শুয়ে আছি। একটু ক্লান্ত লাগছে তাই।
-- ও... তুমি ভাল আছ ত বাবা।
-- হ্যাঁ রে মা ভাল আছি। তুই চিন্তা করিস না।
-- হ্যালো বাবাইরে
-- হুমম
-- শোন না,বাবা এখানে এখন কারেন্ট নেই, অন্ধকার হয়ে আসছে।  বাবা আমি জানলা টা খুলে তোমাকে মোবাইলে বাইরের আওয়াজ টা শোনাচ্ছি দেখ ত জেনারেটর কি চলছে আমি ত বুঝতে পারছিনা। দাঁড়াও আমি তোমাকে শোনাচ্ছি।
(জানলা টা খুলে ও মোবাইল টা মেলে ধরে বাইরে। বাবা যদি শুনতে পায় বাইরে টা। )
-- শুনতে পেলে বাবা, চালিয়েছে?

Friday, 19 June 2015

Sonnet 1 - শরীর জুড়ে আঁচড়

শরীর জুড়ে  আঁচড়, দগদগে কাল, 
মায়াময় মুখখানা। মনে হয় চিনি
নতুন এসেছিল ও,  নাম কি মোহিনী 
সময় হল না আর। কে রাত্রি নামাল?

Tuesday, 16 June 2015

আনমনে গাই।


(আমাকে অনেকেই বলেছেন এই লেখাটা মোবাইলে পড়লে হোঁচট খেতে হচ্ছে, তাই সকলকে অনুরোধ করছি মোবাইল টাকে ল্যান্ডস্কেপ করে ধরে এই লেখাটা পড়ুন তাহলে অসুবিধা হবেনা। লাইনগুল র‍্যাপ হবে না।)


আকাশ পাখি রোদ বৃষ্টি মেঘের কথা একেক সময় একঘেয়েমি লাগে
এসব ছেড়ে মনের সুখে উন্নয়নের ডুব সাঁতারে উড়নচণ্ডী  হই।

Saturday, 6 June 2015

এক টাকা ও একটি জীবন।


দুর্গাপুজোর পর যার সাথেই দেখা হয় আমরা শুভ বিজয়ার পর একটা কথা বলতে ভুলিনা। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। কারণ ভালো থাকতে গেলে যে সুস্থ থাকাটা জরুরী তা আমরা অল্প বিস্তর সবাই মানি। লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, ইন্ডীগো বা বেগুনী সরকার রামধনুর যে রঙ্গেরই হোক, কারুরই তেমন সুস্থ থাকার বা রাখার ব্যাপারে আগ্রহ থাকলেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে তেমন দেখা যায় না। এ বড় আক্ষেপের বিষয়। অথচ এই সুস্থ রাখার ব্যবস্থা আজকের অর্থনৈতিক কাঠামোতে একদম অসম্ভব নয়। এখানে এই নিয়ে আলোচনা যা করছি তা একদিকে যেমন তথ্য-নির্ভর অন্যদিকে ব্যক্তি সাপেক্ষের ক্ষমতা ও ব্যাপ্তি নির্ভর। সরকার এগিয়ে এলে এসব কিছুই দরকার হয়না। সেক্ষেত্রে এ প্রবন্ধ মূল্যহীন হলে আমিই সবচেয়ে শান্তি পাব।

২০১২ সালে ভারতে প্রতি ১৭০০ জন লোকের জন্য একজন ফিজিসিয়ান থাকতে পেরেছে। ২০১১ সালে প্রতি ১৭০০ জনের জন্য একটি হাসপাতাল-বেড কুলানো গেছে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানায়জেসন এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০০০ জনের জন্য একটি করে হাসপাতাল-বেড এবং ১০০০ জনের জন্য একটি করে ফিজিসিয়ান থাকা উচিত মনে করে। এখানে উল্লেখ্য যে এটা বলাই বাহুল্য ১৭০০ জনে ১ জন ডাক্তার বা বেড শুধু সংখ্যার খাতিরে খুব খারাপ একটা অবস্থা। কিন্তু এইখানে যেটা বোঝান গেলনা তা হল এই ১ জন ডাক্তারের হদিসই পাওয়া যায় না অনেক অঞ্চলে। এমনও আছে সারা গ্রামের লোক পাশের গ্রামে যায় যেখানে হয়ত একজন ফিজিসিয়ান  উপস্থিত। অর্থাৎ এখানে ১৭০০ না হয়ত ৫০০০ লোকের জন্য ১ জন ফিজিসিয়ান । মুল কথাটা হল তাই সংখ্যাটা যত বেশি নিম্ন অবস্থা সূচিত করে  তার থেকেও নিম্নতর অবস্থা দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে না থাকা চিকিৎসা ব্যবস্থা।

আর একটা বিষয় আমরা সবাই হয়ত জানি তাও একটু আলোকপাত করি তা হল যে মানুষটা চিকিৎসার আওতায় এলেন তার যে সব সময় সুচিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে তাও না। কারন মূলত দুটো। এক পর্যাপ্ত পরি-কাঠামোর অভাব দুই পর্যাপ্ত অর্থ পেশেণ্টের পরিবারের কাছে না থাকা। এই দুটি ক্ষেত্রেই আমার মনে হয় সরকারের একটা বিপুল ভূমিকা আছে এবং স্বাধীনতার গত সাতষট্টি বছরে এ আমাদের অন্যতম প্রধান ব্যর্থতা।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য এরকম করলে কেমন হয় যে আমরা সবাই এক টাকা করে প্রতিদিন জমা করি। তাহলে প্রতি পরিবার পিছু আমরা কমপক্ষে তিন টাকা পাব।  এখন আমাদের দেশের মোট লোক সংখ্যা হল ১২১ কোটি। আহলে আমরা হাতে পাচ্ছি ১২১ কোটি একদিনে। তাহলে তিন মাসে আমাদের হাতে আসছে ১০ হাজার কোটির বেশী। এই দশ হাজার কোটি টাকা দিয়ে শুরু হতে পারে ১২১ কোটি লোকের মেডিকেল ইন্সিওরেন্স।

উদাহরন স্বরূপ এবারে ধরা যাক ডেংগি রোগাক্রান্ত পেশেন্ট। প্রতি  বছরে ২০২৭৪ জন আক্রান্ত হয়েছে এই রোগে ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে। তাহলে এই সংখ্যক লোকের মধ্যে অর্থ যোগান টা কোন কঠিন কাজ হবার কথা নয়।  কিন্তু এখানে আর একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। তা হল অনেক পেশেন্ট আছে যা হিসাবের মধ্যে নেই এবং এই সংখ্যাটা  ডেংগির ক্ষেত্রে ভয়ানক। যা হল ৫৭ লাখের বেশি। অর্থাৎ আসলে ৫৭ লাখ লোকের ডেঙ্গি হয়েছে বছরে আমরা জানতে পেরেছি মাত্র ২০ হাজার লোকের। এত গেল পেশেন্টের সংখ্যা নির্ণয়।

এবার আমাদের তিন মাসে তোলা ১০ হাজার কোটি টাকা যদি সারা বছরের ডেঙ্গি পেশেন্ট কে সেবা করা যায় তাহলে প্রায় আমরা ২০ হাজার টাকা প্রতি জনের জন্য খরচা করতে পারি।  এইভাবে আমরা মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ১২১ কোটি মানুষ কে সারা বছরের ডেঙ্গি রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচাতে পারলাম।

সুতরাং বাকি নয় মাসের টাকা দিয়ে আমরা কোন আলাদা টাকা বৃদ্ধির কথা না ভেবেই কম পক্ষে আর ও তিনটি খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক রোগের মোকাবিলা করতে পারি গোটা দেশের মানুষের জন্য। আর যদি এর থেকে কিছু টাকা টাকার বাজারে বিনিয়োগ করে দীর্ঘ মেয়াদি টাকা বৃদ্ধি করে পরের কিছু বছরের টাকা আগাম যোগান করে নিতে পারি তাহলে ত আর ও নিশ্চিত অবস্থা।

এবারে এটা কিভাবে করা যায়। বলাই বাহুল্য সরকারের উপর হা-পিত্যেশ করে বসে থাকলে পরিণতি হবে কাঁচকলা। আবার এটাও ঠিক সরকার সাথে না থাকলে এই বিপুল কর্মকাণ্ড সফল করা যাবে না। টাকা কালেকশানের কাজটা করতে হবে ব্যাঙ্ক কে। একটা কথা বলি এই ব্যাপারটা পুরোটাই হবে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। নাহলে এই বিপল অর্থ লিকুইড ক্যাশ হিসাবে যার হাতেই  যাবে সেই এর শ্রাধ্য করে তবে ছাড়বে।

তাই যদি হয় তাহলে প্রতিদিন যত ব্যাঙ্কে যত আকাউন্ট আছে সবার থেকে এক টাকা করে কেটে একটি নির্দিষ্ট আকাউন্টে জমা করা হবে। এখন যেহেতু ভারতে মোট ব্যাঙ্কের মোট আকাউন্টের সংখ্যাটা নেহাত কম নয় তাই এই পদ্ধতিতে অনেক টাকাই খুব সহজে একীভূত করা যাবে। এখানে উল্লেখ্য যে কোন পরিবারে তিনজন মেম্বার আর আকাউন্ট একটা সেক্ষেত্রে মোট তিন টাকা করে সেখান থেকে ট্রান্সফার হবে।

এইবার আসা যাক সবথেকে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটা। ভারতে মোটামুটি ৫০ শতাংশ লোক সেভিংস আকাউন্টের আওতায় পড়েনা। আমরা কিভাবে তাহলে তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন এক টাকা করে সংগ্রহ করব যারা এর আওতায় আসছেন না।

এইখানে সরকারেরে একটা ভুমিকা আছে। পঞ্চায়েত ও করপরেশনের মাধ্যমে প্রতি ব্লকে গ্রামীন ব্যাঙ্কে বা সমবায় ব্যাঙ্কে  আকাউন্ট তৈরি  ও তাতে প্রতিদিনের এক টাকা কাটার প্রয়োজনিয়তা বোঝাতে হবে। এখানে যে কোন রকমের সংস্থা সরকারকে লোক বল দিয়ে সাহাজ্য করতে পারে। এমন কি ব্যক্তি বিশেষ ও নেমে পড়তে পারেন। সরকার যদি এখানে সহযোগিতার হাত না বাড়ায় তাহলে এই কাজটা করতে হবে ছোট ছোট পাড়ার ক্লাব গুলোকে। বলাই বাহুল্য এক্ষেত্রে সরকারের সমস্ত রকম প্রশাসনিক সাহায্য ক্লাবগুলকে পেতেই হবে। আর পাড়ার ক্লাব ও যদি এগিয়ে না আসে তাহলে এই কাজের জন্য আমাদেরকে একটা ক্লাব তৈরিতে হাত দিতেই হবে। তার আলোচনা প্রয়োজনে করা যাবে।

এই ভাবে আমরা এক বছরের মদ্ধ্যেই আমাদের সামান্য এক টাকা করে তুলতে পারি চুয়াল্লিশ হাজার কোটি টাকা। আর এই টাকা দিয়ে ১২১ কোটি মানুষের কম পক্ষে চারটি মহামারি রোগ মোকাবিলা হতে পারে।


(এই আলোচনাতে অনেক কিছুই বিস্তারিত লেখা হল না। এটা আমার একটা ভাবনার কাঠামো মাত্র। পরে পুরো প্রতিমা গড়ার একটা ইচ্ছা রয়ে গেল। যদিও এই ভাবনা বাস্তবে রূপ দেবার উপকরণ লাগে অনেক কিছু তবে অবাস্তব ত মনে হয়না। আবার এসবের কিছুই দরকার হত না যদি সরকার ন্যুনতম সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করত। কবে যে এমন হবে। আমার শরীর অসুস্থ। কাছের হাসপাতাল গেলাম। পাসপোর্ট বা আধার কার্ড বা রেশন কার্ড বা ভোটার কার্ড দেখালাম। রেজিস্ট্রেশনের পর ডাক্তার পরীক্ষা করলেন। আমার মনে কোন সংশয় ই হচ্ছে না যে ডাক্তার পরীক্ষা করলেন না শুধুমাত্র ব্যবসা করলেন। আমার টাকা পয়সার চিন্তা ই করতে হল না। চিকিৎসা ও হয়ে গেল। ট্যাক্স পেয়ার হিসাবে, শহুরে হিসাবে, গ্রামের মানুষ হিসাবে, চাকুরে হিসাবে, কৃষক হিসাবে, ব্যবসায়ী হিসাবে আর ও কত কিছু হিসাবে - নাগরিক হিসাবে হাসি মুখে খুশী হয়ে বাড়ি চলে এলাম। কবে...।  যাই হোক এসব নিয়ে আলোচনার ইচ্ছা রইল।) 


তথ্য গুলো ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছে। নিচে রেফারেন্স দেওয়া হল কেউ যদি আর ও বিশদ জানতে চায়:-





Wednesday, 20 May 2015

নৈবেদ্য

(যারা ব্লগ পড়েন এবং লেখেন সে যে কারনেই হোক এই লেখাটা তাদের সবার জন্য )

সংসার ছুটে যাচ্ছে ক্রমশই সংগ্রামী লয়ে
ঙং আং অং কং খং গং লণ্ডভণ্ড করে নম পুষ্পাঞ্জলি
গীত গোবিন্দ থেকে ডুব দিয়ে তুলে আনি  পদ্যপ্রপাত
তামার রেকাবিতে সাজিয়ে দিলাম সব উন্মুখ প্রাণ।
দারুচিনি দেশ থেকে নিয়ে আসি সমস্ত মায়াময় গান
শঙ্খের ধ্বনি দিয়ে জাগরূক হোক আজ অলস সমাজ
গুস্তাকি মাপ হোক যেখানেই ভুল  কিছু হয়ে গিয়ে  থাক
পরশ পাথর পেলে এ জন্ম ছোঁব আমি প্রকৃতি আস্বাদ
তরঙ্গের উত্তরণে উদ্দীপ্ত হয়ে গেছে আবহ মণ্ডল
রাত ভর মিছিলের হাঁটা শেষে যেমনটি  ভৈরবী রাগ
আয় ব্রহ্ম লিখে যাই অপূর্ব মোহ ভক্তি সাধ্য আর ছন্দবদ্ধতায়।


Wednesday, 13 May 2015

ভালোবাসার টুকরো ছবি

জীবনের কিছু মোড় আছে কিছু সিদ্ধান্ত আছে যা যে মানুষ টা নিচ্ছে তাঁর কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সেরকমই তার চারপাশের জড়িয়ে থাকা মানুষদের কাছে তা হয়ে ওঠে প্রভাবিত করার উপকরণ। আর একটা ব্যাপার আর সবথেকে মুল ব্যাপার হল এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। সিদ্ধান্ত সময়োচিত হলে তিনি সফল আর তা না হলে সেটা আর সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়না। আর একটা ব্যাপার হল আমাদের দেশ কাল সমাজ। এ এমন এক মৈত্রীমণ্ডল এমন এক ছায়া যুদ্ধ এমন এক অপরিবেশ বান্ধব যে আজ রাতে রুটির সাথে পেঁয়াজ পাতে থাকবে কিনা সে সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে থাকেনা অনেক সময়। এরকম একটা বিষম সময় হুট করে তিনি সেই ভুবনজয়ী সিদ্ধান্তটা কত অনায়াসে নিয়েছিলেন। এক জ্ঞান তিতিক্ষু মন নিয়ে মাঝ রাতে ঠিক হয়ে গেল সরকারি চাকরির দরকারি কাজ গুল ছুড়ে দিয়ে কাল সকাল থেকে হবে শুধু লেখা লেখির কাজ। ভুবনজয়ী সিদ্ধান্ত। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আর আমরা প্রভাবিত হলাম।

Monday, 11 May 2015

বাঁচার গান।


ফুল ছোঁড়গো পুষ্প দয়াল মাঝরাতে।
আসর যাব ব্যান্ড বাজছে শিশুর মন,
এলোমেলো কথা বারতা দিগদিশাহীন,
আর কত গো পুড়বো আমি আত্মতেজে,
বাঁচব আমি আরও বাঁচব মধুরবেদন,
যাক ছিঁড়ে যাক সব-ভাবনা গরল দহে,
ফুল ছোঁড়গো পুষ্প দয়াল মাঝরাতে।

Thursday, 7 May 2015

রাজপ্রাসাদ


আমাদের একটা রাজপ্রাসাদ আছে। এর নানা রঙ। নানা মহিমা। যখন উচ্ছ্বাস পিছলে বেরয় হৃদয় থেকে আমরা প্রাসাদের এই কক্ষ টাতে যাই। এখানে থরে থরে রয়েছে তাঁর হাতে সাজান আনন্দের উপঢৌকন। যেমন খুশি হাতে নেয়া যায় তা। মনে হয় "আনন্দধারা বহিছে ভুবনে"। ভুবন আলো করা কক্ষ এটা আমাদের রাজার রাজপ্রাসাদে। অন্য দিকে যখন আমরা শোক পাই তখন ওই বিশাল থাম টাকে আঁকরে ধরি। মনে হয় সমস্ত শোক তাপ ওখানে প্রাজ্ঞ হয়ে থামটা দাঁড়িয়ে আছে গাছের মত। আমরা যারা কাজ করি, রোদ্দুরে ঘাম ঝরে ক্লান্ত হই, আমাদের ও এক কক্ষ আছে। সেখানে দেখতে পাই আমাদের ই শ্রম এখানে হয়ে আছে নানা কারুকার্য। যারা খেলতে থাকি সারাদিন আর এক দম পড়তে ভালবাসিনা  তাদের ও কঠিন কঠিন পড়া সহজ পাঠ হয়ে খেলা ঘর হয়ে আছে প্রাসাদের ভিতর। আর ও কত কক্ষ যে রয়েছে এখানে এক জীবনে তা প্রদক্ষিণ করা মুশকিল।

Thursday, 30 April 2015

May Day - ভরসা দিবস।


আপনি কথা বললে মুখে সুরভিত জোতদারের গন্ধ ছোটে।
রাস্তায় হেঁটে চললে মুঘল বাদশার জুতো শব্দ করে।
হাত নাড়লে, ঠাণ্ডা গাড়ির পেছন সিটের জানলা থেকে,
তেজি ঘোড়ার পিঠের থেকে চাবুক ঘোরে দলিত পিঠে।

--"সকাল থেকে পেছন পেছন এত ছড়া কাটছ কেন। সারাদিনে আমার মত কাজ করতে পারবে। এই নিয়ে কত অলি গলি ঘুরলাম খেয়াল রাখছ। সকাল দশটা বাজে এর মধ্যে দুটো জায়গা ঘোরা হয়ে গেল। এরপর যাব খোলা মাঠে ভাষণ দিতে।"


Sunday, 26 April 2015

কেমন আছি

তর্কে আমার প্রাণ,
বুকের মধ্যে বিষ।
বেবাক লোকের মুখ,
তাকিয়ে নিনির্মিষ।

Thursday, 16 April 2015

ছোটদের ছবি। রচনা ও পরিচালনা: কৌশিক গাঙ্গুলী

কৌশিক গাঙ্গুলীর এখন পর্যন্ত যা ছবি হয়েছে সবি বিষয় বৈচিত্রে এক একটা অনন্য। ছোটোদের ছবিও তাদের মধ্যে পড়ল। এখানে পুর ছবি জুড়ে কাজ করেছেন আমাদের সমাজে আকারে ছোটো মানুষেরা যাদের আমরা বামন বলে থাকি। ছবির মুখ্য চরিত্র তারাই। তাদের জীবনের গল্প এ ছবি। ছবির গল্প লিখেছেন ডাইরেক্টর নিজেই।
সার্কাসে খেলা দ্যাখাতে গিয়ে ট্রাপিজের অপর থেকে পড়ে যায় সবার প্রিয় শিবুদা। কোমর ভেঙ্গে গেছে। মৃত্যুর সাথে লরাই করছে সে। পিজি হসপিটাল এ পঞ্চাশ হাজার খরচ করে অপারেশান করে বাড়িতে শয্যাশায়ী। ইনিও একজন বামন। এমত অবস্থায় সার্কাসের ম্যানেজার মাত্র পনের হাজার টাকা দিয়ে খোকার হাত দিয়ে টাকা পাঠায় শিবুর বাড়ি। এই খোকাই ছবির নায়ক। খোকা টাকা নিয়ে যায় শিবুর বাড়ি। সেখানে সে নিজে চোখে দ্যাখে কিভাবে বেঁচে আছে তার কাজসংগী। পরের দিন কর্মীদের মাইনের দিন খোকা খবর পায় শিবুদা মারা গ্যাছে। শিবুদার কষ্ট তার মনে দাগ কেটে যায়। নিজের টাকা নেবার সময় সে মেজাজ হারিয়ে চাকরি ছারে। শিবুর মেয়ে সোমা সংসার চালানর দায়িত্ব নিয়েছে ট্রেনে ইঁদুর মারা বিষ বিক্রি করে। কষ্টের সংসার। খোকার সাথে এই সোমার ভালবাসা কিভাবে হল এবং তার পরিণতি নিয়ে এই ছবি।

Tuesday, 14 April 2015

নববর্ষ

কাল যেখানে মাটি খুঁড়ছিল আজ দিব্যি রাস্তা হয়ে গেছে
আমরা যাত্রা করছি কেউ - কেউ দোকান দিয়েছে সেখানে।     
নদীটার গায়ে কত চর পড়েছিল গতবছর
মেশিন দিয়ে সাফ করে দিয়েছে পুরোটাই   

একটু খবর নিলে হয়

তোমাদের কস্টের বেঁচে থাকা মনে জাগায়
অনেক বিস্ময়।
টিভি তে খবরাখবর সকালের বাজার আর
সরকারে প্রত্যয়।
সোম থেকে শুক্র খাটুনি দিন শেষে এসি বা নন এসি
বাসে করে বাড়ি ফিরে বাচ্চার খুনসুটি
এবার একটা গাড়ি কিনলে হয়।

উজ্জ্বল দীপশিখা

অলীক কল্পোনা আর বাজ পোড়া বাস্তব কতদূর কতদূর পথ পরিক্রমা
পরনিন্দা পরচর্চা লাল সূর্য আর ঠিক কতদূর নতুন কারখানা
রাতের অন্ধকার নাকি মনের গভীরেই প্রবল অমাবস্যা
জিতলেও হারতে হয় নাকি হেরে গেলে মেলে সেই অপূর্ব উচ্চতা 
তার জন্য ঋদ্ধ হই জ্বালিয়ে রাখি এক সমুদ্র উজ্জ্বল দীপশিখা।